November 12, 2022

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ রহিত করে দেশের বুকে বিচারহীনতার যে ঘৃণ্য সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, তার অবসান ঘটেছে- ডুয়েট উপাচার্য

‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ রহিত করে দেশের বুকে বিচারহীনতার যে ঘৃণ্য সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, তার অবসান ঘটেছে। তাই ১২ নভেম্বর দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ১৯৯৬ সালের এই দিনে মহান জাতীয় সংসদে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ রহিত করে ইতিহাসের কলঙ্কময় ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার পথ উন্মুক্ত হয়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলব চক্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুনের দায় থেকে রক্ষা করার জন্য ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ নামের মানবতাবিরোধী ও কালো আইন প্রণয়ন করেছিল। যা ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। কিন্তু জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠনের পর ওই বছরই ১২ নভেম্বর সপ্তম জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার পথ সুগম করে দেন।’- ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ প্রসঙ্গে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. হাবিবুর রহমান এক বাণীতে এসব কথা বলেন।

বাণীতে উপাচার্য বলেন, আমরা জানি, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে হত্যা করে ইতিহাসের কলঙ্কিত বর্বরোচিত অধ্যায় রচিত হয়- যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। এরপর খুনিচক্র কেবল ব্যক্তি মুজিবকেই হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি, তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তির উপর আঘাত হানে। জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। তার ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ‘জেল হত্যাকাণ্ড’ ঘটে। এরপর দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে জাতির পিতার খুনিদের ফাঁসির রায় ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি ইতিহাসের প্রতি তার দায় শোধ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার করে বাঙালি জাতিকে কলঙ্ক ও দায়মুক্ত করেছেন। এই আইন বাতিল হওয়ার ফলে খুনিদের বিচারকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে এবং এজন্যই আজকের এই দিনটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বলতম ও গৌরবময় দিন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি, ইতিহাসের এই কলঙ্কময় অধ্যায় থেকে বাঙালি জাতিকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করতে হলে পলাতক বাকী খুনিদের ফাঁসি কার্যকর করাসহ এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচিত করতে হবে। এই স্বাধীনতাবিরোধী কুশীলবদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে।’ এছাড়া তিনি বর্বর খুনি ও এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের শুধু বিচার করে নয়; বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শন সকলকে লালন করে সোনার বাংলা গড়ে তোলার মাধ্যমে উন্নত জাতি গঠন করে নৈতিকভাবে দায়মুক্ত হওয়ার আহবান জানান।

November 09, 2022

ডুয়েটে তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণ আজ বুধবার (৯ নভেম্বর, ২০২২ খ্রি.) অনুষ্ঠিত হয়। ডুয়েটের অ্যানুয়াল পারফরম্যান্স এগ্রিমেন্ট (এপিএ) টিম ও তথ্য অধিকার বাস্তবায়নের জন্য গঠিত তথ্য প্রদান ইউনিটের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালাটি উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রশীদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অধিকার বাস্তবায়নের জন্য গঠিত তথ্য প্রদান ইউনিটের আহবায়ক ও পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে টেকনিক্যাল সেশনগুলোতে রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের জনসংযোগ ও তথ্য অধিকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও তথ্য অধিকার বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. হাবিবুর রহমান তথ্যের তাৎপর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, তথ্য প্রাপ্তি জনগণের অধিকার। তাই যথাযথভাবে তথ্য সংরক্ষণ ও তথ্য সেবা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও সবসময় জনগণের কাছে সব ধরনের সরকারি কর্মকান্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বলেছেন। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী সকল নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং তথ্যের প্রবাহ যতো বাড়বে, ততো বেশি মঙ্গল হবে। তিনি আরো বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দূর্নীতি হ্রাস ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে তথ্য অধিকার বাস্তবায়নের জন্য যথাযথভাবে কাজ করতে হবে। তিনি নবম জাতীয় সংসদে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ পাসের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়া তিনি সকলকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও দর্শনকে লালন করে দেশ প্রেমের মন্ত্রে উজ্জ্বীবিত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান জানান।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রশীদ তথ্য সংক্রান্ত বিষয়ে নাগরিকদের সচেতনতা ও তথ্যের অবাধ প্রবাহের গুরুত্ব তুলে ধরে সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য সবাইকে শপথ নেওয়ার আহবান জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আমরা তথ্যভিত্তিক সমাজে বসবাস করি। যার কাছে যতো তথ্য বেশি, সে ততো বেশি সমৃদ্ধ। জনগণের অধিকতর মঙ্গল সাধনে তথ্যের অবাধ প্রবাহ অত্যন্ত জরুরি। তথ্য সরবরাহ বন্ধ হলে বোধের মৃত্যু হয়। তিনি তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য সকলকে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে গুরুত্ব সহকারে কাজ করার আহবান জানান।

পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ)-এর দপ্তরের সহকারী পরিচালক (গণসংযোগ ও প্রকাশনা) ও এপিএ ফোকাল পয়েন্ট মো. জিয়াউল হকের সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও অফিস প্রধানগণ এবং এপিএ সংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটির আহবায়ক ও সদস্য-সচিবগণ অংশগ্রহণ করেন।