ডুয়েটে ইনোভেশন অ্যান্ড অন্ট্রাপ্রেনারশিপ ফেয়ার এবং সেমিনার অনুষ্ঠিত
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন, ২০২৬ খ্রি.) “ইনোভেশন অ্যান্ড অন্ট্রাপ্রেনারশিপ ফেয়ার ২০২৬” এবং সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) দপ্তর এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার। পরিচালক (আইকিউএসি) অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ও প্যানেলিস্ট হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন এবং পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. এ. হাসিব।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ আবু সাঈদ প্রশাসনিক ভবনের ৯ম ও ১০ম তলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম সমাপনী বর্ষের ১০টি বিভাগের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে পোস্টার প্রেজেন্টেশনমূলক ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে “ইনোভেশন অ্যান্ড অন্ট্রাপ্রেনারশিপ এডুকেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েটস : গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস অ্যান্ড ন্যাশনাল পারস্পেকটিভ” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, “আজকের এই আয়োজন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্যের প্রতিফলন। সফল এ আয়োজন প্রমাণ করে যে, আমরা শুধু গ্র্যাজুয়েট তৈরি করি না, আমরা সমাজের পরিবর্তনকারী তৈরি করি। আমাদের শিক্ষার্থীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন এবং ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাস্তব সমস্যার সমাধান করছে। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের টেকসই প্রকৌশল ও প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নির্মাণে নেতৃত্ব দেবে।” এ সময় মাননীয় উপাচার্য দেশের মেগা প্রজেক্টগুলোতে বিদেশী প্রকৌশলীদের প্রাধান্য না দিয়ে দেশের মেধাবী ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের নিয়োগদানের দিকে বর্তমান সরকার প্রাধান্য দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মাননীয় উপাচার্য আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো এমন প্রকৌশলী তৈরি করা, যারা প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং মানবতার সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নত করবে এবং বিশ্ব দরবারে ডুয়েটের সুনাম অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এজন্য ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হয়ে উঠার পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।” বৈশ্বিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষার্থীদের অসাধারণ সৃজনশীলতা আমাদের জাতীয় উন্নয়নেও অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার বলেন, “আজকের এই অনুষ্ঠানে আমরা দেখছি যে, আমাদের শিক্ষার্থীরা কেবল তত্ত্বীয় জ্ঞান নয়, বরং তাদের মেধাবলে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা এবং উদ্ভাবনেও সক্ষম। আজকের এ আয়োজন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পৃথিবীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের শিক্ষার্থীদের আরও বেশি দূরদর্শী ও উদ্যমী করে তুলবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন বলেন, “আজকের এই আয়োজন শুধু একটি একাডেমিক অনুষ্ঠান নয়, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা মানসিকতার মাধ্যমে আমাদের সমাজ এবং বিশ্বকে পরিবর্তন করতে এটি আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি এবং দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।”
সভাপতির বক্তব্যে পরিচালক (আইকিউএসি) অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের কাছে আমার বার্তা হচ্ছে, আপনারা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন, আপনারা বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্মাণকারী গবেষক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা। আজকের আয়োজন থেকে অর্জিত মূল্যবান অভিজ্ঞতা আপনাদের ভবিষ্যতের পাথেয় হিসেবে ভূমিকা রাখবে।”
আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সেমিনারটি পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহজালাল খন্দকারের ধন্যবাদ জ্ঞাপনমূলক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, প্রভোস্ট, অফিস প্রধানবৃন্দসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।