December 22, 2025
ডুয়েটে ‘অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স ইন ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ ‘অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স ইন ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
তিনি বলেন, 'বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতায় অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সভিত্তিক গবেষণার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সভিত্তিক ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চই টেকসই উন্নয়ন, ইন্ডাস্ট্রি এবং টেকনোলজির মধ্যে কার্যকর কানেক্টিভিটি তৈরি করতে পারে। এক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল কোলাবোরেশনের মাধ্যমে গবেষণাকে আরও প্র্যাকটিক্যাল ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘রিসার্চ তখনই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন তা রিয়েল-লাইফের সমস্যা সমাধানে কার্যকর অবদান রাখতে পারে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমাজ ও ইন্ডাস্ট্রি ফোকাসড রিসার্চ ইকোসিস্টেম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’ এই আন্তর্জাতিক সেমিনার ডুয়েটে অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চের ক্ষেত্রে নতুন চিন্তা, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার পথ সুগম করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে মাননীয় উপাচার্য বিজয়ের এই মাসে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ‘দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও কোলাবোরেশনের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষতায় ডুয়েটকে শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে যেতে আমরা কাজ করছি।' তিনি এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার বলেন, ‘অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স প্রকৌশল গবেষণার মেরুদণ্ড। এটি তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর সমাধানে রূপান্তর করে, যা টেকসই জ্বালানি, উন্নত উপকরণ, স্মার্ট উৎপাদন ব্যবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মতো বাস্তব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। আমি আশা করি, এই সেমিনার থেকে ফলপ্রসূ আলোচনা, নতুন গবেষণা ভাবনা এবং দীর্ঘস্থায়ী একাডেমিক সহযোগিতার সূচনা হবে, যা ডুয়েটের বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত গবেষণাকে এগিয়ে নেবে।’
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন আইকিউএসি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া (আইআইইউএম)-এর ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন ড. খাইরুল আজামি বিন সিদেক এবং ইনভাইটেড গেস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইআইইউএম-এর সায়েন্স ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. কার্টিনি বিনতি আহমাদ এবং আইআইইউএম-এর সহকারী অধ্যাপক ড. এস. এম. আফজাল হক।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধে ড. খাইরুল আজামি বিন সিদেক ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চে অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সের ভূমিকা, ইন্টারডিসিপ্লিনারি অ্যাপ্রোচ এবং একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজের বাস্তব দিকগুলো বিশ্লেষণ করেন। এ সময় তিনি আইআইইউএম-এর পরিচিতি ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো আলোচনা করেন। ড. কার্টিনি বিনতি আহমাদ ও ড. এস. এম. আফজাল হক তাঁদের বক্তব্যে ইন্টারন্যাশনাল পাবলিকেশন, কোয়ালিটি রিসার্চ আউটকাম এবং ইয়াং একাডেমিশিয়ানদের জন্য গ্লোবাল নেটওয়ার্কিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সেমিনার শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা মতবিনিময় করেন।
December 18, 2025
ডুয়েটে নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার- ডুয়েট উপাচার্য
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সম্মানজনক আচরণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটরিয়ামে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে “সম্মানজনক আচরণ ও নিরাপদ পরিবেশ: যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে সচেতনতা” শীর্ষক শিরোনামে এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ চর্চা করা হয়। যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হলে সচেতনতা, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ এবং সম্মিলিত দায়িত্ববোধ অপরিহার্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অঙ্গীকার। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
মাননীয় উপাচার্য জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে সমাজে নারী ও পুরুষের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি নিরাপদ, সম্মানজনক ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং এটি বজায় রাখতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগকে নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এ সময় তিনি সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শপথ বাক্য পাঠ করান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার বলেন, ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নীতিমালার আলোকে কার্যকর বাস্তবায়ন, অভিযোগ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি সহমর্মিতা জরুরি।’ তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস, গাজীপুরের প্রমোটিং অল্টারনেটিভ রিসোর্সেস ফর একটিভ সোসাইটি-এর নির্বাহী পরিচালক ফয়জুন্নেসা। ডুয়েটের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছা. নাসরিন আখতারের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য-সচিব ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. খুরশিদা শারমিন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর মেটেরিয়ালস এন্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তাকিয়ান ফখরুল এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব লিউজা-উল-জান্নাহ।
সেমিনারে ড. তাকিয়ান ফখরুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি ও আচরণগত পরিবর্তনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। লিউজা-উল-জান্নাহ তাঁর বক্তব্যে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নীতিমালা, আইনি কাঠামো এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বিদ্যমান নির্দেশনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এছাড়া, ভুক্তভোগীরা যেন নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়, তার বিভিন্ন দিক সেমিনারে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা মতবিনিময় করেন এবং একটি নিরাপদ, সম্মানজনক ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
December 16, 2025
ডুয়েটে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দিবসটি উপলক্ষ্যে সূর্যোদয়ের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়ের বাসভবন, প্রশাসনিক ভবন ও হলসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচী শুরু হয়। সকাল ০৯:০০ ঘটিকায় মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে উপাচার্য মহোদয়ের নেতৃত্বে একটি বিজয় র্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কর্নারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহা. আবু তৈয়ব। আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, হল প্রভোস্ট, অফিস প্রধানগণ এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন সকলকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘১৯৭১ সালের এই দিনটি ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে এইদিনে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ উপহার দিয়েছিলেন। এই বিজয় বিশ্ব ইতিহাসে সাহস, ত্যাগ ও অদম্য চেতনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। সময়ের পরিক্রমায় আমরা আবারও দেখেছি— দেশের ছাত্র-জনতা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ঐতিহাসিক ঐক্যের মাধ্যমে আরেকটি সাহসী উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এই ঐক্যই প্রমাণ করে দিয়েছে, আমরা যদি একতাবদ্ধ থাকি, তবে পৃথিবীর কোনো শক্তিই আমাদের পরাজিত করতে পারবে না।’
মাননীয় উপাচার্য বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহত ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের ওপর যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, ত্যাগ ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে পালন করব। আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ ও কর্মের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে বৈষম্যমুক্ত, উন্নত, কল্যাণকর ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে।’ এ সময় তিনি সকল শহিদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা প্রার্থনা করেন। তিনি একতাবদ্ধ হয়ে মেধাভিত্তিক, ন্যায়সংগত ও বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার দৃঢ় শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞান সৃষ্টির মাধ্যমে প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় ডুয়েটকে আরও গতিশীল ও অগ্রসর করার ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার সকলকে মহান বিজয় দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহত ছাত্র-জনতার ত্যাগ আমাদের জন্য এক চিরন্তন অনুপ্রেরণা। এই ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে সকল ভেদাভেদ ভুলে দেশ ও জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের ভেতর ও বাহিরের সকল ষড়যন্ত্র দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যেতে হবে।’
মহান বিজয় দিবসের অন্যান্য কর্মসূচীর মধ্যে ছিল বা’দ যোহর জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে বিশেষ মোনাজাত, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, প্রীতি ভলিবল প্রতিযোগিতা। উল্লেখ্য, বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সেজেছে বর্ণিল আলোকসজ্জায়।
December 14, 2025
ডুয়েটে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে ১৪ ডিসেম্বর বা’দ যোহর শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে বিশেষ দোয়া এবং মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাত ৯:০০ ঘটিকায় অনলাইন প্লাটফর্মে দিবসটি উপলক্ষ্যে আলোচনা অনুষ্ঠান হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার। আলোচনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. কামাল-আল-হাসান, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. রুমা এবং যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহা. আবু তৈয়ব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আজকের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবীদেরসহ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সকল শহিদদের স্মরণ করে তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নতুন এই বাংলাদেশের অগ্রযাগ্রায় ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে শহিদদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সকল ভেদাভেদ ভুলে দেশকে বিশ্বের প্রথম সারির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সকলকে এক কাতারে এসে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জ্ঞাননির্ভর ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে প্রকৌশল ও প্রযুক্তিকে মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে মেধাভিত্তিক, ন্যায় ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তোলার সাথে সাথে প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা এবং গবেষণা ও প্রকাশনাসহ সকল ক্ষেত্রে ডুয়েটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের প্রত্যেকের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ‘জাতিকে মেধাশুন্য করার লক্ষ্যেই এই ঘৃণিত হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। ১৯৭১ সালের সকল শহিদ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ছাত্র-জনতাসহ সকলের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নতুন এই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রত্যেকের অবস্থান থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।’
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।