February 05, 2026

ডুয়েটের সাথে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিটোপিয়ার এমওইউ স্বাক্ষরিত

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর সঙ্গে বাংলাদেশের লিডিং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিটোপিয়ার এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) উপাচার্য মহোদয়ের সভাকক্ষে এ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডুয়েটের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন এবং মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার। ডুয়েটের পক্ষে এমওইউতে স্বাক্ষর করেন রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহা. আবু তৈয়ব এবং বিটোপিয়ার পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক জনাব মো. মনির হোসাইন।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য মহোদয় বলেন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ উত্তরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন আছে। শীঘ্রই নবনির্মিত আইসিটি ইনকিউবেটরের কার্যক্রম চালু হবে। এর মাধ্যমে ডুয়েট শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুম ও ল্যাবে অর্জিত তাদের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবে রূপদানের সুযোগ পাবে। এছাড়া ডুয়েটের গবেষণাগারসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চলমান ‘এম-ডুয়েট’ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে ডুয়েট সেন্টার অব এক্সিলেন্স-এ পরিণত হবে।’

উপাচার্য মহোদয় বিটোপিয়া গ্রুপকে তাদের গৃহীত উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোলাবোরেশান, শিক্ষার্থীদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সপোজার, ইন্টার্নশিপ প্রদান এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে ডুয়েট এবং বিটোপিয়া গ্রুপ একসাথে কাজ করবে। এজন্যে ডুয়েটের পক্ষ থেকে পরামর্শক সেবা প্রদান থেকে শুরু করে ডিজাইন, উন্নয়ন, উৎপাদন ও বিপণনে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’

ডুয়েটের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার বলেন, ‘ডুয়েট এবং বিটোপিয়া গ্রুপের মধ্যকার আজকের এই এমওইউ স্বাক্ষর আমাদেরকে লোকাল এবং গ্লোবাল লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। ডুয়েট শিক্ষার্থীদের মেধা এবং একাডেমি-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশনে বিটোপিয়া প্রদত্ত সুযোগ একত্র হলে অচিরেই দেশকে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী গবেষক ও বিজ্ঞানী তৈরির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে ডুয়েট।’

আইটি ইনকিউবেশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এক্সপোজার, ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিক্রুটমেন্ট, বিজিনেস-ইউনিভার্সিটি-গভর্নমেন্ট (বি টু ইউ টু জি), কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে যৌথ কার্যক্রম প্রসারিত করার প্রত্যয়ে এমওইউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. রুমা, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড  ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মমতাজ বেগম, মেটেরিয়ালস এন্ড মেটালার্জিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. হাসান মোহাম্মদ মোস্তফা আফরোজ, আইসিটি সেলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফজলুল হাসান সিদ্দিকী প্রমুখ। বিটোপিয়া গ্রুপের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন গ্রুপটির প্রশাসন ও আইন শাখার প্রধান মো. রেজাউল করিম, মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান মো. সাজেদুল ইসলাম এবং চীফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার মোহা. আশরাফুল মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য, বিটোপিয়া গ্রুপ বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড সলিউশন, ডাটা সেন্টার, বিপিও, এবং ফিনটেকের মতো প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। বর্তমানে এশিয়া, আমেরিকা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বিস্তৃত আছে।

February 02, 2026

ডুয়েট এবং ইন্দোনেশিয়ার পিপিএনএস-এর মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরিত

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর এবং ইন্দোনেশিয়ার পিপিএনএস-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। মানবসম্পদ বিজ্ঞান ও প্রকৌশল প্রযুক্তির ক্ষেত্রকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে শিক্ষা, গবেষণা ও কমিউনিটি সার্র্ভিস বিষয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ডুয়েটের সভাকক্ষে এই এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডুয়েটের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন এবং মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার। 

মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এই সমঝোতা স্মারক উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, গবেষণা ও প্রযুক্তির সেতুবন্ধনের মাইলফলক। এই উদ্যোগের মাধ্যমে উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও সংস্কৃতির মধ্যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। ফলে একাডেমিক জ্ঞান বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ বৃদ্ধি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কর্মমুখী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তুলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের প্রস্তুতি গ্রহণ করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা এবং এই পরিবর্তনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমাদের শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে গড়ে তোলাই ডুয়েটের লক্ষ্য। পিপিএনএস-এর সঙ্গে এই এমওইউ সেই দিগন্ত উন্মোচনের আরেকটি নতুন পদক্ষেপ, যা শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিকে সুদৃঢ় করবে।’ 

উপাচার্য মহোদয় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই একাডেমিক অংশীদারত্ব শুধু শিক্ষার্থী বা শিক্ষকদের মধ্যে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামেই সীমাবদ্ধ থাকবে না— বরং এটি হবে ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এক যৌথ যাত্রা। এই সহযোগিতা ভবিষ্যতের উদ্ভাবনী ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।’

মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার বলেন, ‘ডুয়েট ও পিপিএনএস-এর যৌথ উদ্যোগ ডুয়েটের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশনকে আরও শক্তিশালী করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা আশা করি, এটি দুই দেশের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিনিময়কে আরও সম্প্রসারিত করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সম্ভাবনা উন্মোচন করবে।’

মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের উপস্থিতিতে ডুয়েটের পক্ষে এমওইউতে স্বাক্ষর করেন রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহা. আবু তৈয়ব। পিপিএনএস-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রাচমাদ ত্রি সেলিস্তিজিনো, এস.টি., এম.টি.। এ সময় পিপিএনএস-এর প্রতিনিধি হিসেবে ডুয়েটে উপস্থিত থেকে এমওইউ সম্পন্ন করেন প্রতিষ্ঠানটির সাসটেইনেবল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি প্রোগ্রামের প্রধান অধ্যাপক ড. আনিস মুসতাগফিরিন, এস.টি., এম.টি.। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, মেটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. হাসান মোহাম্মদ মোস্তফা আফরোজ, পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন এবং অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ। 

এই সমঝোতা স্মারকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমওইউ-এর আওতায় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা ও প্রকাশনা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এক্সচেঞ্জ কর্মসূচি, পারস্পরিক ল্যাব ও ওয়ার্কশপ ব্যবহার এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, পলিটেকনিক পারকাপালান নেগারি সুরাবায়া (পিপিএনএস) ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষা, সংস্কৃতি, গবেষণা ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত একটি রাষ্ট্রীয় পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠান, যা ইন্দোনেশিয়ার জাভা প্রদেশের সুরাবায়া শহরে অবস্থিত। এটি বিশেষভাবে জাহাজ নির্মাণ, সামুদ্রিক প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চমানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে।

January 31, 2026

ডুয়েটে ‘মেকানিক্যাল, ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড প্রোসেস ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিএমএমপিই-২০২৬)’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সম্পন্ন

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর ‘মেকানিক্যাল, ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড প্রোসেস ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিএমএমপিই-২০২৬)’ শীর্ষক দুইদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এ কনফারেন্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘ইতোমধ্যে গৌরব আর নানা অর্জনের মধ্য দিয়ে ডুয়েট দেশের অন্যতম একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তরুণ গবেষকদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরির মাধ্যমে ডুয়েটের আয়োজিত এ কনফারেন্স চতুর্থ শিল্প বিল্পবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদেরকে আরো দক্ষ হয়ে উঠতে সহায়তা করবে।’ তিনি বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরি থেকে বাংলাদেশের উন্নতির পর জীবনযাত্রার ব্যয় থেকে শুরু করে দেশের সবকিছুতে এর প্রভাব পড়বে। এমতাবস্থায় বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিতে গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং জ্ঞানের আদান-প্রদানের মাধ্যমে গবেষণা ক্ষেত্রের মান উন্নয়ন ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশের শিল্পখাতকে সমৃদ্ধ করতে এই ধরনের আন্তর্জাতিক কনফারেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’


এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘যন্ত্রকৌশল অনুষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে যোগ দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। চমৎকার এই কনফারেন্সটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য ডুয়েটের মাননীয় উপাচার্য, আয়োজক কমিটি, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট অধ্যাপক এবং দেশ-বিদেশের অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’


কনফারেন্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন প্রথম থেকে পর্যায়ক্রমে পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের ইতিহাস আলোচনা করে বলেন, ‘যন্ত্রকৌশল, উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকৌশল শিল্প উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে সাইবার-ফিজিক্যাল সিস্টেম, ইন্টারনেট অব থিংস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এর ধারাবাহিকতায় আমরা থ্রিডি প্রিন্টিং, স্মার্ট টেক্সটাইল, সবুজ রসায়ন, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতির মতো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিগুলো প্রত্যক্ষ করছি।’


তিনি বলেন, ‘একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকে এসে পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের প্রাক্কালে আমার বিশ্বাস, এই কনফারেন্সটি ভবিষ্যতের জটিল প্রকৌশল বিষয়ক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ও দেশের জন্য টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখতে এবং জ্ঞানের আদান-প্রদান ও সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। আমি ডুয়েটের যন্ত্রকৌশল অনুষদকে শিক্ষার এবং গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের নিরলস প্রচেষ্টা ও কনফারেন্সটি সফল করার জন্য ধন্যবাদ জানাই।’


কনফারেন্সের পৃষ্ঠপোষক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার বলেন, ‘দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত এ কনফারেন্স এডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, টেকসই এনার্জি, নিরাপদ প্রক্রিয়াকরণের মতো বিষয়ে আন্তঃসহযোগিতা, সমন্বিত গবেষণা, উদ্ভাবনী সমাধান এবং পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়ের উপযোগিতা, প্রয়োজনীয়তা ও প্রেরণা নিয়ে সমাপ্ত হতে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, 'গবেষণাকে পেপারে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্প ও সমাজের কল্যাণে এর ব্যবহারিক প্রয়োগই গবেষণার পরিপূর্ণতা আনে। ডুয়েটের অন্যতম লক্ষ্যও এটিই।’ কনফারেন্সের লক্ষ্য উদ্দেশ্যকে কাজে লাগিয়ে এখান থেকে অর্জিত শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তরুণ গবেষকদের প্রতি তিনি আহবান জানান।


কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে কী-নোট বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. সুং ইওন কাং এবং মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. রুইগ্যাং ওয়াং।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডীন ও কনফারেন্স চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি সুষ্ঠুভাবে কনফারেন্সটি সফল করতে সহযোগীতা করায় স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোসহ অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কনফারেন্স অরগানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাসান মোহাম্মদ মোস্তফা আফরোজ এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. এ এন এম মোমিনুল ইসলাম মুকুট।

উল্লেখ্য, দুইদিন ব্যাপী এ আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বিভিন্ন বিষয়ে মোট ১৯৫ টির অধিক টেকনিক্যাল পেপার, কী নোট বক্তৃতা, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিক কোলাবোরেশন ইত্যাদি উপস্থাপিত হয়েছে এবং এর মধ্য থেকে বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. রুইগ্যাং ওয়াং ও ডুয়েটের পিএইচডি গবেষক মনির হোসেন বেস্ট পেপার উপস্থাপনের জন্য যৌথভাবে অ্যাওয়ার্ড পান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তাসহ দেশ-বিদেশের শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও গবেষকগণ অংশগ্রহণ করেন

January 30, 2026

ডুয়েটে যন্ত্রকৌশল অনুষদের উদ্যোগে দুইদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি.) ‘থার্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন মেকানিক্যাল, ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড প্রোসেস ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিএমএমপিই-২০২৬)’ শীর্ষক দুইদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধন করা হয়।


মেকানিক্যাল, ম্যানুফ্যাকচারিং, এনার্জি, টেক্সটাইল, ফুড, কেমিক্যাল এবং প্রোসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে অধিকতর গবেষণা ও উদ্ভাবনকে লক্ষ্য রেখে আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে যন্ত্রকৌশল অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিসেস ফারজানা মমতাজ। কনফারেন্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার।


উদ্বোধনী বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য বলেন, ‘আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রযুক্তিগত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে, যা ন্যানোটেকনোলজি, অটোমেশন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ইন্টারনেট অব থিংস, এডভান্সড সেন্সর, এডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং (থ্রিডি প্রিন্টিং), শক্তি সঞ্চয়, বৈদ্যুতিক যানবাহন, রোবোটিক্স এবং স্মার্ট ম্যাটিরিয়ালসের মতো প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও বিকাশের মাধ্যমে বিশ্বকে সমৃদ্ধ করছে।’


তিনি বলেন, ‘ভারী শিল্প, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিদ্যার ত্রিমাত্রিক রূপান্তরের মাধ্যমে পুরানো প্রযুক্তি ছাড়িয়ে মানব সভ্যতা এখন নবতর রূপ লাভ করছে। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে মোট কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, সম্পদের ঘাটতি এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়সমূহকে সামনে রেখে সময়, অর্থ ও শক্তি সাশ্রয়ী এ আবিষ্কারগুলো ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।’ বক্তব্যে তিনি উদ্ভাবনগলোর সুফল কাজে লাগিয়ে যন্ত্রকৌশল অনুষদের প্রকৌশলীদের দেশ ও জাতিকে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নেতৃত্ব দেওয়ার আহবান জানান। জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নবতর গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য শিক্ষক, গবেষক, উদ্ভাবক ও শিল্প উদ্যোক্তাসহ সকলকে একযোগে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য বলেন, ‘মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এখন কেবল যন্ত্রপাতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এডভান্সড ও লাইটওয়েট হাই-স্ট্রেন্থ ন্যানো ম্যাটেরিয়ালস, ডিজিটাল ম্যানুফেকচারিং, এপ্লাইড মেকানিকস, থার্মোফ্লুইডস, এনার্জি এফিশিয়েন্ট থার্মাল সিস্টেম, ট্রাইবোলজি, বায়োডিগ্রেডেবল ফাইবার, নবায়নযোগ্য হাইব্রিড গ্রিড, হাইড্রোজেন এনার্জি সিস্টেমস, ফায়ার সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি আধুনিক মানব সভ্যতায় ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছে।’ গবেষণামূলক দৃষ্টিভঙ্গী তৈরি, নিত্যনতুন আইডিয়ার বাস্তবায়ন ও জ্ঞানের সম্প্রসারণের মাধ্যমে মানব সভ্যতাকে এক ধাপ সামনে এগিয়ে নিতে এ কনফারেন্স  ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 


কনফারেন্স চেয়ার ও যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ‘প্রকৌশল প্রযুক্তির সর্বাধুনিক জ্ঞানের বৈশ্বিক বিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এ কনফারেন্স আগামীর টেকসই পৃথিবী গড়তে ভূমিকা রাখবে।’


কনফারেন্সের অরগানাইজিং সেক্রেটারির বক্তব্যে ইনস্টিটিউট অব এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. এ এন এম মোমিনুল ইসলাম মুকুট বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং এখন প্রথাগত ল্যাব ও ক্লাসরুমের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ভূমিকা রাখছে। আইসিএমএমপিই-২০২৬ তরুণ গবেষকদেরকে অভিজ্ঞ একাডেমিশিয়ান ও শিল্পখাতের উদ্যোক্তাদের সাথে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিয়েছে।’

 

কনফারেন্সের প্রথম দিনে কী নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাপানের সাগা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আকিও মিয়ারা, পিএইচডি ও টোকিও মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরোমিচি ওবারা, পিএইচডি। আরও বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিজিং ওয়াং, পিএইচডি এবং ইন্দোনেশিয়ার পলিটেকনিক পারকাপালান নেগারির ড. মুহাম্মদ আনিস মুস্তাগফিরিন এসটি., এমটি.।


দুইদিন ব্যাপী এ কনফারেন্সে বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, জাপান, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন প্রভৃতি দেশের মোট ১৯৫টি পেপার উপস্থাপনের জন্য গৃহীত হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দসহ দেশ-বিদেশের শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও গবেষকগণ অংশগ্রহণ করছেন।

January 29, 2026

ডুয়েটে ১২তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত

ঢাকা প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর- ১২তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে বেলুন পায়রা উড়িয়ে প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক . মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। সময় উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক . মো. আরেফিন কাওসার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) অধ্যাপক . উৎপল কুমার দাস। মাঠাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিচালক (শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র) অধ্যাপক . কাজী রফিকুল ইসলাম। সময় জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা, অলিম্পিক পতাকা হলসমূহের পতাকা উত্তোলন করা হয়। দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দসহ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ এবং ক্যাম্পাসের শিশুরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, প্রভোস্ট, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অফিস প্রধানগণসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতা শেষে ৩৫টি ইভেন্টের বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার বিতরণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক . মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক . মো. আরেফিন কাওসারসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য পরিচালক (শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র) অধ্যাপক . কাজী রফিকুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব কাজী আবু মনজুর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক জনাব নুরুজ্জামান।

January 26, 2026

ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ঢাকা প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর ক্যাম্পাসে অবস্থিত ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুলের ২৯তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল কর্তৃক দিনব্যাপী আয়োজনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক . মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক . মো. আরেফিন কাওসার, পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) অধ্যাপক . উৎপল কুমার দাস, পরিচালক (শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র) অধ্যাপক . কাজী রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক . মো. খসরু মিয়া। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্তা¡বধানে ছিলেন ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. . রউফ মিয়া। সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট দপ্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারী এবং স্কুৃলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী অভিভাবকমন্ডলী উপস্থিত ছিলেন।

January 22, 2026

ডুয়েটে আন্তঃহল ভলিবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর চ্যাম্পিয়ন কেএনআই হলের টিম ধূমকেতু

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে আন্তঃহল ভলিবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলায় কাজী নজরুল ইসলাম (কেএনআই) হলের টিম ধূমকেতু বিজয় ২৪ হলের টিম গ্ল্যাডিয়েটরসকে পরাজিত করে টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়।
খেলাশেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুয়েটের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তিনি বিজয়ী, বিজিত ও খেলায় অংশগ্রহণকারী সব দলকে অভিনন্দন জানান। পুরস্কার বিতরণকালে মাননীয় উপাচার্য বলেন, ‘খেলাধুলা শারীরিক গঠন, মানসিক বিকাশ ও নেতৃত্বের গুণাবলী গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা একান্তভাবে জরুরি।’ তিনি আরো বলেন, ‘জয়-পরাজয় মিলেই খেলাধুলা। এটা মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।’
বিশেষ অতিথি মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার খেলায় অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মনোদৈহিক বিকাশ ও সুস্থ মানসিকতার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।’
টুর্নামেন্টে বিভিন্ন হলের ১০ টি দল অংশগ্রহণ করে। পরিচালক (শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র) অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
January 11, 2026

গবেষণা ও উদ্ভাবনমুখী শিক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে ডুয়েট হবে সেন্টার অব এক্সিলেন্স - ডুয়েট উপাচার্য

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর বিভিন্ন দপ্তর ও অফিসের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে “এনহেন্সিং অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ এক্সিলেন্স : প্রফেশনালিজম, অফিস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে পুরাতন একাডেমিক ভবনের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের স্মরণ করে বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম স্তম্ভ।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে সময়ে সময়ে আয়োজিত বিভিন্ন ধরনের সেমিনার, সিম্পোজিয়ামেরই ধারাবাহিকতা আজকের এই আয়োজন।’ তিনি অংশগ্রহণকারী সবাইকে সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তিগত  দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নীতি, নৈতিকতা, সততা, স্বচ্ছতা, বিশ্বস্ততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অবদান রাখার উদাত্ত আহবান জানান। তিনি বলেন, ‘সবাইকে পেশাগত যুগোপযোগী জ্ঞানার্জন এবং অফিস ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক ক্ষেত্রে সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ধরে রেখে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রশাসনিক দিক থেকেও সেন্টার অব এক্সিলেন্সে পরিণত করতে হবে।’ এজন্যে তিনি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের অনুসঙ্গ ক্লাউড কম্পিউটিং, ইন্টারনেট অব থিংস, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ক্যাশহীন লেনদেনের মতো সুফলকে কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়ত নিজের দক্ষতাবৃদ্ধির মাধ্যমে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রকাশনায় ডুয়েটকে দেশের শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে যেতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার বলেন, ‘কর্মকর্তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম চালিকাশক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার জন্যে সময়ানুবর্তিতা মেনে যথাসময়ে সব কাজ করতে টিমওয়ার্কের বিকল্প নেই।’ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে নিজের মধ্যে ধারণ করে সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সম্মিলিতভাবে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়ার আহবান জানান তিনি।

আইকিউএসি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর আইন- ২০০৩, সরকারি চাকুরি বিধিমালা-১৯৭৯ এবং করণীয়-বর্জনীয় ইত্যাদি বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডুয়েটের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহা. আবু তৈয়ব। দরপত্র, বাজেট, অডিট, অর্থ ছাড়, বিল পেমেন্ট প্রভৃতি আর্থিক ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কম্পট্রোলার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। এর আগে শুভেচ্ছা বক্তা ও র‌্যাপোটিয়ার হিসেবে অতিরিক্ত পরিচালক (আইকিউএসি) অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলামের বক্তব্য প্রদানের মধ্য দিয়ে সেমিনারটি শুরু হয়। সেমিনারে নবম গ্রেড ও তদুর্দ্ধ গ্রেডের কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
January 03, 2026

ডুয়েটে উৎসবমুখর পরিবেশে ইইই বিভাগের প্রথম অ্যালামনাই রিইউনিয়ন অনুষ্ঠিত

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো বিভাগের প্রথম অ্যালামনাই রিইউনিয়ন। বর্ণাঢ্য র‌্যালি, পায়রা ও বেলুন উড়ানোর মধ্য দিয়ে আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বিদ্যুৎ গ্রিড, কমিউনিকেশন সিস্টেম এবং সিলিকন প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিক যুগকে গতিশীল রাখার পেছনের কারিগর এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ২০২৬ সালে এসে আমরা দেখতে পাচ্ছি,  ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং খাত এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। টেকসই জ্বালানি, স্মার্ট গ্রিড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং, ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সফার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি, ৫জি ও পরবর্তী প্রজন্মের কমিউনিকেশন সিস্টেম, ন্যানোপ্রযুক্তি নির্ভর ইলেকট্রনিক্স, আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর এবং ইনটেলিজেন্ট অটোমেশন ব্যবস্থার সমন্বয়ে এই খাত আজ বহুমাত্রিক রূপ পেয়েছে। এছাড়া রিনিউয়েবল এনার্জি, শিল্প উৎপাদনের আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিটি বড় পরিবর্তনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতেই ইইই পেশাজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য।’

মাননীয় উপাচার্য বলেন, ‘ডুয়েটকে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, কো-কারিকুলাম ও এক্সট্রা-কারিকুলার কার্যক্রম, সুদৃঢ় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক, প্রাতিষ্ঠানিক ব্র্যান্ডিং, সক্রিয় অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক এবং টেকসই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যেতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অ্যালামনাই রিইউনিয়ন একটি প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় অতীত ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন।’  তিনি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শিল্প ও গবেষণায় তাঁদের অর্জিত অভিজ্ঞতা বর্তমান শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রকৌশলীদের জন্য বাস্তবসম্মত দিক-নির্দেশনা হতে পারে।’ অ্যালামনাই ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পারস্পরিক সহযোগিতাই ডুয়েটকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার বলেন, ‘ইইই অ্যালামনাই রিইউনিয়ন একাডেমিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা, শিল্পখাত ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে বাস্তবসম্মত সংযোগ তৈরি এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার একটি কার্যকর মঞ্চ। এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং তাদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করবে। আমি মনে করি, এই পুনর্মিলন ভবিষ্যতে বিভাগভিত্তিক গবেষণা সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনমূলক উদ্যোগ এবং শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শক্ত ও টেকসই ভিত্তি তৈরি করবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন ইইই অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. রুমা, পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) ও ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস এবং প্রথম ব্যাচের অ্যালামনাই ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুস সালাম খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইইই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের অর্গানাইজিং চেয়ার ও পরিচালক (শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র) অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম এবং অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান। এছাড়া মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) ও  ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন এবং ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাজু আহমেদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক ও আপোষহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

‘সেলিব্রেটিং দ্যা পাওয়ার অব টুগেদারনেস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অ্যালামনাই রিইউনিয়নে মুক্ত আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও শিল্পখাতে সম্ভাবনা নিয়ে প্রাণবন্ত মতবিনিময় হয়। অনুষ্ঠানের অন্যান্য পর্বের মধ্যে ছিল ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, স্মৃতিচারণা, ব্যাচভিত্তিক আড্ডা, গ্রুপ ফটো সেশন, র‌্যাফেল ড্র, পুরস্কার বিতরণী। পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পদচারণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের হাসি-আনন্দ, স্মৃতি রোমন্থন, বন্ধুত্বের উষ্ণতা এবং পুনর্মিলনের আবেগে তৈরি হয় এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ। অনুষ্ঠানের সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে ইইই বিভাগের সার্বিক উন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, শিল্প-একাডেমিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

December 30, 2025

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ডুয়েট উপাচার্যের শোক

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আজ (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় মাননীয় উপাচার্য বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া দেশপ্রেম, দৃঢ়তা ও দূরদর্শিতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর আপোষহীন নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় তাঁর নিরলস সংগ্রাম ও ত্যাগ ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আজীবন সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় ও কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তাঁর মৃত্যু জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও ত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’
মাননীয় উপাচার্য বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
December 22, 2025

ডুয়েটে ‘অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স ইন ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত


তিনি বলেন, 'বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতায় অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সভিত্তিক গবেষণার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সভিত্তিক ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চই টেকসই উন্নয়ন, ইন্ডাস্ট্রি এবং টেকনোলজির মধ্যে কার্যকর কানেক্টিভিটি তৈরি করতে পারে। এক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল কোলাবোরেশনের মাধ্যমে গবেষণাকে আরও প্র্যাকটিক্যাল ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘রিসার্চ তখনই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন তা রিয়েল-লাইফের সমস্যা সমাধানে কার্যকর অবদান রাখতে পারে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমাজ ও ইন্ডাস্ট্রি ফোকাসড রিসার্চ ইকোসিস্টেম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’ এই আন্তর্জাতিক সেমিনার ডুয়েটে অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চের ক্ষেত্রে নতুন চিন্তা, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার পথ সুগম করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
December 18, 2025

ডুয়েটে নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার- ডুয়েট উপাচার্য


ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সম্মানজনক আচরণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটরিয়ামে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে “সম্মানজনক আচরণ ও নিরাপদ পরিবেশ: যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে সচেতনতা” শীর্ষক শিরোনামে এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ চর্চা করা হয়। যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হলে সচেতনতা, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ এবং সম্মিলিত দায়িত্ববোধ অপরিহার্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অঙ্গীকার। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
মাননীয় উপাচার্য জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে সমাজে নারী ও পুরুষের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি নিরাপদ, সম্মানজনক ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং এটি বজায় রাখতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগকে নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এ সময় তিনি সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শপথ বাক্য পাঠ করান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার বলেন, ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নীতিমালার আলোকে কার্যকর বাস্তবায়ন, অভিযোগ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি সহমর্মিতা জরুরি।’ তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস, গাজীপুরের প্রমোটিং অল্টারনেটিভ রিসোর্সেস ফর একটিভ সোসাইটি-এর নির্বাহী পরিচালক ফয়জুন্নেসা। ডুয়েটের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছা. নাসরিন আখতারের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য-সচিব ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. খুরশিদা শারমিন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর মেটেরিয়ালস এন্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তাকিয়ান ফখরুল এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব লিউজা-উল-জান্নাহ।
সেমিনারে ড. তাকিয়ান ফখরুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি ও আচরণগত পরিবর্তনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। লিউজা-উল-জান্নাহ তাঁর বক্তব্যে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নীতিমালা, আইনি কাঠামো এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বিদ্যমান নির্দেশনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এছাড়া, ভুক্তভোগীরা যেন নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়, তার বিভিন্ন দিক সেমিনারে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা মতবিনিময় করেন এবং একটি নিরাপদ, সম্মানজনক ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

December 17, 2025

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সভিত্তিক কারিকুলাম অপরিহার্য- ডুয়েট উপাচার্য

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেছেন, ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এখন একাডেমিক ক্ষেত্রে সক্রিয় ও প্রভাবশালী টুলস্। পাঠদান, গবেষণা, মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং জ্ঞান সৃষ্টির কাঠামোতে এআই এমন এক রূপান্তর এনেছে, যা আমাদের প্রচলিত একাডেমিক চিন্তাধারাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। ফলে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি আমাদের মানবিক বোধ ও একাডেমিক স্বচ্ছতা সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।’ আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার কক্ষে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) কর্তৃক আয়োজিত “দ্য ফিউচার অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ইন একাডেমিয়া: ডিসরাপশনস, ডাইলেমা অ্যান্ড নিউ ডিরেকশনস” শীর্ষক সেমিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাননীয় উপাচার্য আরও বলেন, ‘প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা সাধনে আমাদেরকে যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক সংবেদনশীলতা, নৈতিক দায়বদ্ধতা এবং একাডেমিক স্বচ্ছতা অক্ষুণ্ন রাখাও আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের প্রস্তুতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এআই ও জেন-এআই লিটারেসি, প্রশিক্ষণ এবং আন্তঃবিভাগীয় গবেষণা উদ্যোগ জোরদার করা হলে এই প্রযুক্তি উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের এই সেমিনারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষকবৃন্দ আরও সমৃদ্ধ হবেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।’
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান ও র‌্যাপোটিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম। সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘আমাদের দায়িত্বশীল ব্যবহার ও দৃষ্টিভঙ্গিই একাডেমিয়ায় এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটাতে পারলেই একাডেমিয়া সত্যিকার অর্থে টেকসই ও উৎকর্ষমুখী হবে।’ তিনি একাডেমিয়ায় এআই-এর বর্তমান প্রয়োগ, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় ভবিষ্যৎ মডেলের দিক-নির্দেশনা বিশদভাবে তুলে ধরেন। পরে প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে সেমিনারটি সমাপ্ত হয়।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, ইনস্টিটিউট ও সেন্টারের পরিচালকবৃন্দ, আইকিউএসি এবং গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট থেকে মনোনীত শিক্ষকগণ অংশগ্রহণ করেন।
December 16, 2025

ডুয়েটে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত


ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দিবসটি উপলক্ষ্যে সূর্যোদয়ের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়ের বাসভবন, প্রশাসনিক ভবন ও হলসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচী শুরু হয়। সকাল ০৯:০০ ঘটিকায় মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে উপাচার্য মহোদয়ের নেতৃত্বে একটি বিজয় র‌্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কর্নারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন সকলকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘১৯৭১ সালের এই দিনটি ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে এইদিনে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ উপহার দিয়েছিলেন। এই বিজয় বিশ্ব ইতিহাসে সাহস, ত্যাগ ও অদম্য চেতনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। সময়ের পরিক্রমায় আমরা আবারও দেখেছি— দেশের ছাত্র-জনতা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ঐতিহাসিক ঐক্যের মাধ্যমে আরেকটি সাহসী উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এই ঐক্যই প্রমাণ করে দিয়েছে, আমরা যদি একতাবদ্ধ থাকি, তবে পৃথিবীর কোনো শক্তিই আমাদের পরাজিত করতে পারবে না।’
মাননীয় উপাচার্য বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহত ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের ওপর যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, ত্যাগ ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে পালন করব। আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ ও কর্মের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে বৈষম্যমুক্ত, উন্নত, কল্যাণকর ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে।’ এ সময় তিনি সকল শহিদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা প্রার্থনা করেন। তিনি একতাবদ্ধ হয়ে মেধাভিত্তিক, ন্যায়সংগত ও বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার দৃঢ় শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞান সৃষ্টির মাধ্যমে প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় ডুয়েটকে আরও গতিশীল ও অগ্রসর করার ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার সকলকে মহান বিজয় দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহত ছাত্র-জনতার ত্যাগ আমাদের জন্য এক চিরন্তন অনুপ্রেরণা। এই ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে সকল ভেদাভেদ ভুলে দেশ ও জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের ভেতর ও বাহিরের সকল ষড়যন্ত্র দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যেতে হবে।’
December 14, 2025

ডুয়েটে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত


ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে ১৪ ডিসেম্বর বা’দ যোহর শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে বিশেষ দোয়া এবং মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাত ৯:০০ ঘটিকায় অনলাইন প্লাটফর্মে দিবসটি উপলক্ষ্যে আলোচনা অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আজকের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবীদেরসহ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সকল শহিদদের স্মরণ করে তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নতুন এই বাংলাদেশের অগ্রযাগ্রায় ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে শহিদদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সকল ভেদাভেদ ভুলে দেশকে বিশ্বের প্রথম সারির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সকলকে এক কাতারে এসে কাজ করতে হবে।’